অম্লপিত্ত বা এসিডিটি সমস্যায় আমরা অনেকে ভুগে থাকি। এটি দূর করার জন্য আমরা কিছু ঘরোয়া উপায় সর্ম্পকে জানতে পারি।
এসিডিটি সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়
লবঙ্গ ঃ গ্যাসের সমস্যায় লবঙ্গ একটি ভালো উপাদান। খাওয়ার পর দুপুরে ও রাতে একটি করে লবঙ্গ চুষে খেলে গ্যাসের রোগ ও গ্যাস জনিত রোগে উপাকার পাওয়া যায়।
বিবিধ ঃ আগেই বলেছি লবঙ্গ পাচন-ক্রিয়াতে সরাসরি কাজ করে। তাছাড়া এতে ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। পাকাশয়ের রস-ক্রিয়া বলপ্রাপ্ত হয়। রুচি নষ্ট হলে, অর্থাৎ খাওয়ার ইচ্ছে না থাকলে তা দূর করে ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। মনকে প্রসন্ন রাখে। লবঙ্গ কৃমিনাশও করে এবং প্রসাব বৃদ্ধি করে।

তবে এসিডিটি রোগীদের চা-কফি খাওয়া ঠিক নয়। এগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছেড়ে দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
লবঙ্গ কফ দূর করে, শ্বাসকষ্ট দূর করে এবং রক্তের শ্বেতকণিকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। লবঙ্গ কফ, পিত্ত, বাত নাশ করে।
পথ্য ঃ অম্লপিত্ত রোগে খাওয়া-দাওয়ার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার দরকার হয়।
গরম দুধ, বেদানার রস, মুসম্বি, আঙুর, মৌরি, মনাক্কা, আমলা, ডুমুর, পুরনো চাল, শশা ইত্যাদি রসযুক্ত পদার্থ, চালকুমড়ো, ছাতু ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।
অপথ্য ঃ গরম খাবার, অম্ল ও কটু রসযুক্ত পদার্থ, মদ, মাংস, তেল, কলাইয়ের ডাল ইত্যাদি সমস্ত রকম পিত্ত প্রকোপক খাদ্য এসিডিটি রোগে বর্জনীয়।
অন্যান্য ঃ রোজ দুপুরে ও রাতে খাওয়ার পরে ছোট্ট একটু গুড়ের ডেলা (১০ গ্রাম) মুখে রেখে চুষলে মুখের টক জল আসা বন্ধ হবে। এসিডিটি নাশ করা ছাড়াও পেটে বায়ু হতে দেয় না। পেটে যাদের গ্যাস হয় বা খাওয়ার পর গ্যাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাদের গুড় চুষে খেলে উপকার হয়। এতে শরীরের নোংরা বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। মুখে বা জিভে ঘা হলেও এতে কাজ হয়। এছাড়া হৃদয়, দুর্বলতা, শরীরের শৈথিল্য ইত্যাদিতেও ফলদায়ক। গুড় যদি এক বছরের পুরনো হয় তাহলে আরও বেশী উপকার পাওয়া যায়।
ছোট কালো হরীতকী চূর্ণ ২ গ্রাম বা ১/২ চামচ সমমাত্রার গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে জল খেলেও অম্লপিত্ত রোগে উপকার পাওয়া যায়। প্রতিদিন রাতে খাওয়োর আধঘণ্টা পরে দিন তিনেক খেলে এসিডিটি নাশ হয়।