পুরুষের যৌবন ধরে রাখতে তারা কত কিছুই না করে থাকে। এই সময়ে এসে অনেক পুরুষই যৌন সমস্যায় ভুগছেন। একটা নির্দিষ্ট বয়সের আগেই তাদের যৌনকাঙ্ক্ষা কমে যাচ্ছে। আমাদের সবারই মনের মধ্যেই তাঁর যৌবন কে সুস্থ, সতেজ এবং আকর্ষণীয় রাখার প্রবণতা বিরাজ করে। বর্তমানে ব্যস্ততম জীবন যাত্রায় এবং কাজের অকল্পনীয় চাপের বেশ কিছুটা প্রভাব যৌবনের উপর পড়ছে।
যে পুরুষরা বাইরে একা কাজ করেন, তাঁদের সমস্যা টা অনেক জটিল। সংসারের সমস্ত চাপ টা পড়ছে একজনের উপর, যার দরুন তাঁকে বাইরের কাজের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত থাকতে হয়। উপরন্তু কাজের প্রেসার তো আছেই। এতো ধকল কাটিয়ে যৌবনের সুখ উপভোগ করার ইচ্ছা টা ক্ষীণ হয়ে আসছে। ফলে সম্পর্কের মধ্যে অনেক সময় ফাটল দেখা দেয়।

কিন্তু যৌবন কে সুস্থ সবল রাখতে নিয়মিত শারীরিক মিলন অনস্বীকার্য। কারণ শারীরিক মিলন শরীরের অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অসুখ-বিসুখ কম হয়। বলাই বাহুল্য, নীরোগ শরীর যৌবন ধরে রাখার একমাত্র চাবিকাঠি।
এতে অনেক শক্তি খরচ হয়, ক্লান্তি আসে, যার ফলে ঘুম খুব ভালো হয়। পর্যাপ্ত ঘুম সুস্বাস্থ্য এবং যৌবন ধরে রাখে। তাই সেক্স কে অবহেলা করে যৌবন ধরে রাখা সম্ভব নয়। কারণ সেক্স শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।
তাই শত কাজ এবং ব্যস্ততার সত্তেও যৌবন কে সুস্থ ও দীর্ঘ দিন ধরে রাখতে চাইলে খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে জীবন যাপন সবেতেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া অত্যাবশ্যকীয়। বিশেষ করে যখন বয়স বাড়তে থাকে তখন এই ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই যেসব খাবার আপনার যৌন ইচ্ছা কমিয়ে দেয় বা যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে সেগুলি খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই ভালো। এই সমস্যার পিছনে খাদ্যাভাস মারাত্মক প্রভাব থাকতে পারে।
আরও পড়ুন- দ্রুত বীর্যপাত কেন হয়, এর লক্ষণ ও প্রতিকার
যেসব কারণে পুরুষের যৌনক্ষমতা কমে যাচ্ছে-
১। ধূমপান ও মদ্যপানের প্রভাব :
যত আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, ধূমপান ও আভিজাত্যে মদ্যপান যেন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ সমাজ মারাত্মক ক্ষতিকারক নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল পুরুষের ইডি বা লিঙ্গের উত্থানজনিত সমস্যা আছে তাদের মধ্যে বেশির ভাগই পুরুষেই ধূমপান বা মদ্যপান করে থাকেন।
২। দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়া:
পুরুষের জীবন সঙ্গী অনেক সময় যৌন মিলনে অক্ষম থাকে সে কারণে অনেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। স্ত্রীর নানা রকম শারীরিক সমস্যা হয় যার দরুন পুরুষের শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নষ্ট করে দিতে থাকে। এ কারণে অনেকে যৌনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থের সম্মুখীন হন।
৩। হস্তমৈথুন সমস্যা:
অনেক পুরুষ প্রয়োজনের থেকে অনেক হস্তমৈথুন করে থাকেন। অনেকের এটি অভ্যাসের রূপ নেয়। অতিরিক্ত হস্তমৈথুন যৌনক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাধাগ্রস্থ করে।
৪। ওজন নিয়ন্ত্রণ না রাখা :
ওজন বেশি থাকলে যৌন সঙ্গমের ইচ্ছাও কমে যায়। আবার ওজন কম থাকাও যৌক্তিক নয়! ওজন স্বাভাবিকের থেকে কম থাকলে সেটাও যৌন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক রাখাটা জরুরি।
৫। ব্যায়াম না করা :
যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের যৌনক্ষমতা অন্যান্যদের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালনের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়, যা আপনার যৌনাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
৬। আসক্তি :
এখন যুব সমাজ নানা নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে, যার দরুন তাদের বেশিরভাগই ধীরে ধীরে যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তাছাড়াও কিছু কিছু যৌন উত্তেজক ঔষধ আছে যেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যৌনক্ষমতা কমিয়ে আনে।
৭। রোগগ্রস্থ হওয়া :
অনেক সময় শরীরে নীরবে অসুখ বিসুখ বাসা বাঁধে। সে কারণে যৌন ক্ষমতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
যৌবন শক্তি বৃদ্ধির উপায়
সুস্থ থাকতে এবং তারুণ্য ও যৌবন ধরে রাখতে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। এমন কিছু খাবার আছে যা নিয়ম করে খেলে আপনার যৌবন থাকবে অটুট।
০১। মধু :
যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌবন ধরে রাখার সর্বপ্রথম উপাদান হল মধু। সকালে খালি পেটে মধু খেলে কফ দূর হয়, পাকস্থলী পরিস্কার হয়, দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়, গ্রন্থ খুলে দেয়, পাকস্থলী স্বাভাবিক হয়ে যায়, মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে, স্বাভাবিক তাপে শক্তি আসে, রতি শক্তি বৃদ্ধি হয়, মূত্রথলির পাথর দূর করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ায়। প্যারালাইসিসের জন্যও মধু উপকারী। মধু হাজারো রকম ফুল ও দানার নির্যাস।
২। দই :
দই আমাদের অনেকের কাছে খুব প্রিয় একটি খাবার। দই মেদ ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। যারা যৌবন ধরে রাখতে চান তাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে নিয়মিত দই খান। দইয়ে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম আছে যা শরীরের গঠন ভালো রাখে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। দই বয়সজনিত কারণে হওয়া রোগগুলো প্রতিরোধ করে। এছাড়াও দই ত্বককে রাখে বলিরেখা মুক্ত। তাই যৌবন ধরে রাখতে চাইলে প্রতিদিন দই খান।
৩। দুধ :
শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং যৌবন ধরে রাখতে দুধের ভূমিকা অতুলনীয়। এর রহস্য হলো এই যে, দুধ রতিশক্তি সৃষ্টি করে দেহের শুস্কতা দূর করে এবং দ্রুত হজম হয়ে খাদ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়, বীর্য সৃষ্টি করে, চেহারায় লাল বর্ণ তৈরী করে, দেহের অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং মস্তিস্ক শক্তিশালী করে। যৌন শক্তি বৃদ্ধি এবং যৌবন ধরে রাখতে দুধের কোন তুলনা হয়না। বিশেষ করে ছাগলের দুধ পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।
০২। খেজুর :
যৌন শক্তির সঙ্গে খোরমা ও খেজুরের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এ কারনেই বিবাহ-শাদীতে খোরমা-খেজুর বিলি করার আদিম রীতি চলে আসছে। খোরমা খেজুর চুষলে পিপাসা দমন হয়। অধিকাংশ হালুয়া তৈরীতে এ কারণেই খোরমা ও খেজুর ব্যাবহার করা হয়। চিকিতসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গ্রন্থেও খোরমা ব্যবহার যৌন শক্তির জন্য উপকারী বলা হয়েছে।
০৩। ডিম :
সকালের নাস্তায় প্রতিদিন একটি করে সেদ্ধ ডিম খান। এটি যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে এবং সারাদিন শরীরে শক্তি পাওয়া যায় ও শরীর চাঙ্গা থাকে। সকাল বেলা একটি সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন শরীরে শক্তি পাওয়া যায়। কারণ সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন, প্রোটিন ও শরীরের জন্য উপকারী চর্বি উপাদান। তাড়াহুড়ার সময় যদি নাস্তা খাওয়ার সময় না থাকে তাহলেও একটি সেদ্ধ ডিম খেয়েই সেরে নিন সকালের নাস্তা। সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন, প্রোটিন ও শরীরের জন্য উপকারী চর্বি উপাদান।
০৪। পালং শাক :
পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে যৌন উদ্দীপনাও বাড়ে। পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক,ব্রকলি, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি এগুলোতে রয়েছে ফলেট, ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান। এছাড়াও নিয়মিত রঙিন শাকসবজি খেলে আপনার যৌবন থাকবে অটুট।
০৫। রসুন :
রসুনে রয়েছে এলিসিন নামের উপাদান যা দৈহিক ইন্দ্রিয়গুলোতে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। রসুনে অনেক উপকারিতা রয়েছে। রসুন ফোড়া ভালো করে, ঋতুস্রাব চালু করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক করে, পাকস্থলী থেকে গ্যাস নির্গত করে, নিস্তেজ লোকদের মধ্যে যৌন ক্ষমতা সৃষ্টি করে, বীর্য বৃদ্ধি করে, গরম স্বভাব লোকদের বীর্য গাঢ় করে, পাকস্থলী ও গ্রন্থর ব্যাথার উপকার সাধন এ্যাজমা এবং কাঁপুনি রোগেও উপকার সাধন করে। দৈহিক সমস্যা থাকলে এখনই নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
০৬। স্ট্রবেরি :
স্ট্রবেরি হোক কিংবা ব্ল্যাকবেরি, সবকটিই আপনার শরীরের জন্য খুবই ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। আপনার ত্বককে করে রাখবে সতেজ। স্ট্রবেরি দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে বিধায় শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টিঅক্সিডেনট যা পুরুষের স্পারমের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
০৭। কলা :
কলার রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ও পটাশিয়াম। পটাশিয়ামের অভাবে ত্বক রুক্ষ হয়, কলা সেই পটাশিয়ামের অভাব পূরণ করে দেয়। ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম মানবদেহের যৌনরস উৎপাদন বাড়ায়। কলায় রয়েছে ব্রমেলাইন নামক এনজাইম যা পুরুষের যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এতে আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও রিবফ্লাবিন যা শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে দেহকে সুস্থ রাখে এবং বীর্যের মান উন্নত করে। আর কলায় রয়েছে ব্রোমেলিয়ানও যা শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক এবং যৌবন ধরে রাখতে সহায়ক।
০৮। তরমুজ :
তরমুজ কে মূলত প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা বলা হয়ে থাকে। এক গবেষণায় জানা গিয়েছে যে তরমুজে রয়েছে এমন কিছু বিশেষ উপাদান যা দেহের যৌন উত্তেজনা বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়াও তরমুজ শরীরের পানির শূন্যতা পূরণ করে।
০৯। বাদাম ও বিভিন্ন বীজ :
সকল ধরনের বাদাম এবং বীজে আছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল যা দেহের যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে এবং বীর্য তৈরি ও ঘন হতে সাহায্য করে। এর মধ্যে এ্যলমন্ড (কাঠ বাদাম), কুমড়ার বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম খাওয়া বেশি ভাল। এগুলোতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করে। সেক্স হরমোনগুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
১০। সামুদ্রিক মাছ :
সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরন হয়। ফলে যৌন স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে এবং যৌবন ধরে রাখা যাবে বহুদিন।
সবশেষে- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন তারুণ্য এবং যৌন জীবন চমকপ্রদ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।