তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে। তরমুজ খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেকের অজানা। এতে ভরপুর জল থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।
তরমুজের উৎপত্তিস্থান হলো দক্ষিণ অফ্রিকা। এই ফলটিতে ৬% চিনি এবং ৯২% জল থাকে। এর অর্থ হল আপনি কম ক্যালোরি এবং প্রচুর খাবার গ্রহণ করছেন। এতে অন্য উপাদান থাকে ২%। এই ফলে ভিটামিন এ রয়েছে। তরমুজে ডিহাইড্রেশন কমায় সেই সাথে আপনার ডায়েটে এই ফলটি আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করবে।
এই ফলটি আপনাকে হাইড্রেটেড রাখায় আপনাকে মুখের শুষ্কতা থেকে রক্ষা করতে পারে এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। হাইড্রেটেড থাকা উচ্চ গ্রীষ্মে আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখবে। এটি আপনার শরীরকে পরিষ্কার রাখতে এবং আপনার ত্বকতে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে। তাই আপনাকে প্রতিদিন এক কাপ তরমুজ খেতে হবে।
তরমুজ কী জাতীয় ফল?
তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ফল। এর ইংরেজি নাম [Watermelon]। এটি গ্রীষ্মকালে খুবই জনপ্রিয়। এতে ভরপুর জল থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে নিচে স্ক্রল করে পড়ুন।
শরীরে যেসব ঘাটতি পূরণ করে-
গরমকালে জলের বিকল্প হিসেবে খুব ভালো কাজ করে তরমুজ। আমাদের শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করে এই ফল। শরীরে এনার্জি দেয়। আর লাল টুকটুকে তরমুজ কে না পছন্দ করেন। গরমকালে এই ফলটির চাহিদাও তেমনই থাকে। তরমুজে ৯২% পানি থাকায় এটি শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব পূরণ করতে সক্ষম।
তরমুজের পুষ্টি উপাদান রয়েছে
তরমুজে সামান্য পরিমাণে ক্যালরি আছে। এটি খেলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার ভয় থাকে না। তরমুজে আছে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ। মৌসুমি এই ফলে রয়েছে অনেক রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা। তরমুজ হলো ভিটামিন ‘বি-৬’ এর একটি উৎস। যা মস্তিষ্ক সচল রাখতে সহায়তা করে। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি খেলে স্ট্রেসজনিত অসুস্থতার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তরমুজ নিয়মিত থেকে কোলন ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের ভয় থাকে না। তরমুজে ক্যারোটিনয়েড থাকায় চোখের নানা রকম সমস্যায় প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ ছাড়া তরমুজ আর যেসব উপকার করে জেনে নিন-
তরমুজের উপকারিতা:
১। আমরা শরীরকে হাইড্রেট রাখার জন্য জল পান করি। জলের বিকল্প হিসেবে শরীরকে হাইড্রেট রাখে তরমুজ। তরমুজে ৯২ শতাংশ জল থাকে। যা আমাদের শরীরকে ডিহাইড্রেট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
২। তরমুজে ২১ শতাংশ ভিটামিন সি, ১৮ শতাংশ ভিটামিন এ, ৫ শতাংশ পটাশিয়াম, ৪ শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম এবং ৩ শতাংশ ভিটামিন বি১, বি৫ এবং বি৬ আছে।
৩। গবেষকেরা তরমুজে এমন কিছু উপকারী উপাদান খুঁজে পেয়েছেন, যা অ্যান্টি ক্যানসার হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে তরমুজ।
৪। সারা বিশ্বে মৃত্যুর সবথেকে বড় কারণটাই হল হৃদরোগ। সঠিক ডায়েট এবং জীবনযাপন মেনে চললে তা রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিক রাখে। হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।
৫। চুল এবং ত্বকের জন্য খুবই উপকারী তরমুজ। ত্বককে পরিস্কার রাখতে এবং চুলকে মজবুত করতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার।
৬। হৃদ-রোগীদের জন্য এটি খুব ভালো কাজ করে।
৭। যারা টাইফয়েড রোগী আছে তারা যদি আধাপাকা তরমুজের রস প্রতিদিন ২ চা চামচ পান করে তাহলে তারা খুবই উপকার পাবে।
৮। হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে তরমুজ।
৯। তরমুজে ‘পটাশিয়াম’ আছে যা উচ্চ-রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
১০। গরমকালে তরমুজ খাওয়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে। এটিতে ক্যারোটিনয়েড আছে যা চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে।
তরমুজের অপকারিতা:
১। তরমুজে ‘সরবিটল’ নামক একটি উপাদান রয়েছে। এই উপাদানটি থাকার কারণে বেশি তরমুজ খেলে অম্বল ও বদহজম দেখা দিতে পারে।
২। তরমুজ ফাইবারে ভরপুর। অতিরিক্ত তরমুজ খেলে ডায়রিয়াসহ পেটের অন্যান্য রোগ হতে পারে।
৩। লাইকোপিন নামক রাসায়নিকের কারণে তরমুজের রং গাঢ় ও উজ্জ্বল হয়ে থাকে। লাইকোপিন একপ্রকার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে শরীরে ঢুকলে পেটের নানা সমস্যা দিতে পারে এবং হজমের সমস্যাও হতে পারে।
৪। তরমুজে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি থাকায় প্রতিদিন তরমুজ খেলে ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে।
৫। তরমুজে জলের পরিমাণ বেশি থাকায় তরমুজ খাওয়ার পাশাপাশি জল খাওয়ার পরিমাণও বেশি হলে শরীরে জলের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে আপনার ‘ওভার-হাইড্রেশন’ দেখা দিতে পারে, যা কিডনির বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
৬। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ক্যালোরির পরিমাণ প্রায় ৬ গ্রাম। ১ দিনে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত তরমুজ হজম করা সম্ভব। তাই অতিরিক্ত তরমুজ খাওয়া উচিত নয়।
সবশেষে বলতে গেলে তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা থাকা সত্ত্বেও আমরা তরমুজের ভালো দিকটি আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান।
কোন মাটিতে তরমুজ চাষ ভালো হয়
উর্বরযুক্ত বেলে দোআঁশ মাটিকে তরমুজ চাষ ভালো হয়। তরমুজ চাষের জন্য উপর্যুক্ত মাটিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকতে হবে। পানির অভাব হলে তরমুজ গাছের পাতায় এবং লতায় ছত্রাক জন্মাতে পারে।
সোর্স- https://pharmeasy.in/blog/11-health-benefits-of-watermelon-history-recipes-and-faqs/