ড্রাগন ফলের উপকারিতা অনেক উপকারিতা রয়েছে। ড্রাগন ফল একটি বিদেশি ফল। এর আরেক নাম ‘কমলম’। আমাদের দেশে ড্রাগন ফলের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। নব্বইয়ের দশক থেকে বাণিজ্যিক ভাবে এই ফলের প্রচলন শুরু হয় বাংলাদেশে। বর্তমানে বাংলাদেশে ড্রাগন ফলের চাহিদা বাড়ছে এবং সেই সাথে উৎপাদনও বাড়ছে। এই ফলটির নাম ড্রাগন হলেও এটি সত্যিকারের ড্রাগনের মতো নয়। এটি একটি সুস্বাদু ফল। এটি একটি ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ ফল।
ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা গুলো কী কী?
ক্যালোরি ,ভিটামিন সি, ওমেগা ৩ ,ও ওমেগা ৯,এবং প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, থাকে ড্রাগন ফলে। এই ফলে বিটা ক্যারোটিন ও লাইকোপিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। বিটা ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে ত্বক, চোখ ও ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি করে। এখানে ড্রাগন ফলের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা উল্লেখ করা হলো।

ড্রাগন ফল শরীরে কি কি উপকার করে?
১. কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে
ড্রাগন ফলে ফাইবার থাকে, যেটি অন্ত্রের বর্জ্য দূরীকরণে সহায়তা করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা রয়েছে তারা এই ফল খেলে উপকার পেতে পারেন। সালসা তৈরি করে অথবা ফ্রুট সালাদ বা স্মুদিতে যোগ করে ড্রাগন ফল খেতে পারেন। এই ফলের স্বাদ হালকা।
২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
ড্রাগন ফল অন্যান্য ফলের তুলনায় বেশি ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। মাত্র এক কাপ ড্রাগন ফলে ২৪ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম বা এক আউন্স রয়েছে। ম্যাগনেসিয়ামের উচ্চতর গ্রহণ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
৩. হার্টের উপকার করে
ড্রাগন ফলের বীজে হার্টের জন্য উপকারী কারণ এটিতে রয়েছে ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৯ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে।‘ড্রাগন ফলের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে। একারণে এই ফল খেলে হার্টের রোগের ঝুঁকি ও জয়েন্টের ব্যথা কমে যায়। ড্রাগন ফল খেলে বিষন্নতাও কমে যায়।
৪. হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে
অধিকাংশ ফলের চেয়ে ড্রাগন ফলে বেশি ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এটা হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে। অস্টিওপোরোসিসে হাড় এতই দুর্বল হয়ে যায় যে সহজেই ভেঙে পড়তে পারে। মাসিক চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এমন নারীদের হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ড্রাগন ফল বিশেষ সহায়ক হতে পারে।
৫. রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে
বিশ্বের একটি অতি পরিচিত পুষ্টি ঘাটতি হলো আয়রনের ঘাটতি। নারীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। মাংস, মাছ, বাদাম ও ডাল জাতীয় খাবার থেকে আমরা অধিকাংশ আয়রন গ্রহণ করে থাকি। মাত্র কিছু ফলে উচ্চ পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায়। এসব ফলের একটি হলো ড্রাগন ফল। ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে ১.৯ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে, যা দৈনিক সুপারিশকৃত মাত্রার ১০ শতাংশেরও বেশি। হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য আয়রন প্রয়োজন, যা শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছাতে লোহিত রক্তকণিকাকে সাহায্য করে।
৬. চুলপড়া রোধ করে
আয়রন ঘাটতির কারণে চুলপড়া সমস্যাও হতে পারে। নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে চুলপড়া কমতে পারে। এছাড়া এই ফল আয়রন ঘাটতি জনিত রক্তস্বল্পতার অন্যান্য উপসর্গও প্রশমিত করতে পারে, যেমন- অত্যধিক ক্লান্তি, ত্বকের বিবর্ণতা, মনোনিবেশে সমস্যা, মাথাব্যথা ও হাত-পায়ে ঠান্ডা অনুভূতি।
৭. ইমিউনিটি তৈরি করে
ভাইরাস সংক্রমণে আমরা সাধারণত কমলার মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলের দিকে ঝুঁকে পড়ি, কারণ ভিটামিন সি ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলে। কিন্তু ইমিউন সিস্টেমের কার্যক্ষমতা বাড়াতে ডায়েটে ড্রাগন ফলকে রাখার কথাও বিবেচনা করতে পারেন। এতেও প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। বেথ ওয়ারেন নিউট্রিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পুষ্টিবিদ বেথ ওয়ারেন বলেন, ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস জনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে যে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট প্রয়োজন তা ফল ও শাকসবজিতে রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের একটি প্রাচুর্যপূর্ণ উৎস হলো ড্রাগন ফল।